বেদবাণী তৃতীয় খণ্ডের পত্রাংশ (১৩৩)—

 নমস্কার।

যে দিন থেকে আপনি নিজের কর্তৃত্ব ভুলে গিয়ে—সব কিছু ভগবানের ওপর ছেড়ে দেবেন…
সেই দিন থেকেই আপনার জীবন বদলে যেতে শুরু করবে!”

বেদবাণী ১৩৩ — শ্রীশ্রী রামঠাকুরের অমৃত নির্দেশ।


আজ আমরা শুনব বেদবাণী তৃতীয় খণ্ডের পত্রাংশ (১৩৩)
যেখানে শ্রীশ্রী রামঠাকুর আমাদের শেখাচ্ছেন—
কিভাবে নিজের অহংকার ভুলে, সম্পূর্ণ ভগবানের ওপর নির্ভর করতে হয়—
এবং কেন কেবল ভক্তিই সংসার–বন্ধন কাটানোর পথ।

চলুন শুরু করা যাক।


🎬 MAIN SCRIPT (Original Text Narration + Easy Explanation)

📜 মূল বাণী পাঠ

 আপন কর্ত্তৃত্বের মধ্যে না থাকিয়া কেবল ভগবানের উপর নির্ভর করিয়া লাভ, লোকসান, অসিদ্ধ, সিদ্ধ, জয়, অজয়, ভাল, মন্দ কোন বিষয়ে লক্ষ্য না রাখিয়া সংসারে গুরোপদিষ্ট কার্য্য করিতে থাকুন। ভগবান যাহা করেন তদ্বিষয়ে ‘সন্তোষ’ থাকিয়া কেবল কর্ম্ম করিবেন কেবল ভক্তি ব্যতীত সকল ভাবই সংসার বন্ধন হেতু। কাশীক্ষেত্র (শরীর), ভক্তিশ্রদ্ধা (গয়া) তৎসাধ্য হইয়াছে গঙ্গা, নিজ গুরুচরণ প্রয়াগ। কাশীক্ষেত্রং শরীরং ত্রিভুবন জননী ব্যাপিনী জ্ঞান গঙ্গা, ভক্তিশ্রদ্ধা গয়েয়ং নিজগুরু চরণং ধ্যানং তীর্থ: প্রয়াগ:।

✔ সহজ ব্যাখ্যা:

মানুষ ভাবে—
আমি করব,
আমি পাব,
আমি সফল হব,
আমিই দায়িত্বে আছি।

ঠাকুর বলছেন—এই “আমি–ভাবই” তো বাঁধন।
নিজের কর্তৃত্ব ভুলুন।
সব ফল ভগবানকে সমর্পণ করুন।

আপনার কাজ—
➡ শুধু কর্তা নয়,
ভগবানের যন্ত্র হয়ে কাজ করা।


📜 দ্বিতীয় অংশ

“ভগবান যাহা করেন তদ্বিষয়ে ‘সন্তোষ’ থাকিয়া কেবল কর্ম করিবেন।”

✔ ব্যাখ্যা:

জিতলে খুশি, হারলে দুঃখ — এই মনোভাব ভক্তির পথে বাধা।
বেদবাণী বলছে—
যা ঘটে তা ভগবানের ইচ্ছা।
জয়–পরাজয়—সবই তাঁর লীলা।
আপনার কাজ—সমর্পণ ও সন্তোষ।


📜 তৃতীয় অংশ

“কেবল ভক্তি ব্যতীত সকল ভাবই সংসার–বন্ধন হেতু।”

✔ ব্যাখ্যা:

জ্ঞান, ধ্যান, শক্তি–সাধনা—সবই হতে পারে।
কিন্তু যদি ভক্তি না থাকে—
তবে সবই পুনরায় আপনাকে বন্ধনে ফেরাবে।

ভক্তিই মুক্তির একমাত্র সোজা পথ।


📜 চতুর্থ অংশ — প্রতীকী ব্যাখ্যা

“কাশীক্ষেত্র (শরীর), ভক্তিশ্রদ্ধা (গয়া), তৎসাধ্য হইয়াছে গঙ্গা, নিজ গুরুচরণ প্রয়াগ।”

এটি এক অদ্ভুত গভীর রূপক:

✔ ১) কাশী = শরীর

এই শরীরই তীর্থ—এখানেই সাধনা।

✔ ২) গয়া = ভক্তিশ্রদ্ধা

শ্রদ্ধা ছাড়া কোনো পুণ্য সম্পূর্ণ নয়।

✔ ৩) গঙ্গা = জ্ঞান

জ্ঞান মনকে পবিত্র করে—যেন গঙ্গার স্রোত।

✔ ৪) প্রয়াগ = গুরুচরণ

তীর্থের তীর্থ—প্রয়াগ।
আর আপনার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ তীর্থ—
নিজ গুরুর চরণে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ।


🎬 POINT-TO-POINT EXPLANATION (ELABORATE VERSION)

⭐ ১. নিজের কর্তা–ভাব ভুলুন

“আমি করব”—এই ধারণা ত্যাগ করলে মন হালকা হয়।

⭐ ২. ভগবানের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা

আসল শান্তি আসে—
যখন আপনি জানেন, “ভগবানই কর্তা, আমি নয়।”

⭐ ৩. ফল নয়, কর্তব্যে মন দিন

লাভ–লোকসান ভগবানের হাতে।
আপনার দায়িত্ব—কাজ করে যাওয়া।

⭐ ৪. সন্তোষই মুক্তি

যা পাই—ভালো,
যা না পাই—তাও ভালো।
এই সন্তোষই ভক্তির প্রথম ধাপ।

⭐ ৫. ভক্তি ছাড়া সবই বন্ধন

জ্ঞান বাড়লে অহংকারও বাড়তে পারে।
কিন্তু ভক্তিতে অহংকার গলে যায়।

⭐ ৬. শরীরই কাশী—সাধনার ক্ষেত্র

বাহিরে তীর্থ খুঁজবেন না—
এই শরীরেই ভগবানের ধাম।

⭐ ৭. শ্রদ্ধাই গয়া

যেখানে শ্রদ্ধা, সেখানেই পুণ্য।

⭐ ৮. জ্ঞানই গঙ্গা

জ্ঞান মনকে পবিত্র করে, অজ্ঞতা দূর করে।

⭐ ৯. গুরুচরণই প্রয়াগ

তীর্থের তীর্থ—
গুরুর চরণ।
সেখানেই ভক্তি পূর্ণতা পায়।


🎬 END SCRIPT — Emotional Conclusion + CTA

আজকের বেদবাণী আমাদের স্পষ্ট করে দেয়—
ভক্তির পথ সহজ, কিন্তু সরলতা ও সমর্পণ ছাড়া এই পথ দৃশ্যমান হয় না।
জীবনের সমস্ত ফল, জয়–পরাজয়—সবই ভগবানের ইচ্ছা।
আমাদের কাজ, শুধু তাঁর ইচ্ছার যন্ত্র হয়ে কাজ করে যাওয়া।

জয় গুরু, জয় রামঠাকুর।

👉 যদি আপনাদের এই ব্যাখ্যা ভালো লাগে,
তাহলে LIKE করুন, COMMENT করুন
এবং নতুন বেদবাণীর ব্যাখ্যা পেতে
CHANNEL–টি SUBSCRIBE করতে ভুলবেন না।
🔔 নোটিফিকেশন অন রাখবেন—যাতে নতুন ভিডিও আপলোড হলে সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যান।


আপনি চাইলে আমি এখনই—

বেদবাণী তৃতীয় খণ্ডের পত্রাংশ (১৩৩)— বেদবাণী তৃতীয় খণ্ডের পত্রাংশ (১৩৩)— Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ(SriSriramthakur O gan Ganer vhovon Youtube channel) on November 14, 2025 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.